সোমবার ০২ অগাস্ট ২০২১ || শ্রাবণ ১৭ ১৪২৮ || ২৩ জিলহজ্জ ১৪৪২

Logo
Logo

শেষ সময়ে গাবতলীতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

আপডেট: 10:52 PM, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

শেষ সময়ে গাবতলীতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়

সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সরকারের এ ঘোষণার পরই ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে। শহর এলাকায় বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করলেও দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ আছে ৫ এপ্রিল থেকে। এতেও মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ নানা উপায়ে বাড়ি ফিরছেন তারা।

গত কয়েকদিনের তুলনায় মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকালে গাবতলীতে বাড়িফেরা মানুষের চাপ ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে থাকে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। সরেজমিনে রাত সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদক গাবতলী এলাকা ঘুরে দেখতে পান- প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়েই বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা শুরু করছেন অনেকে।

মোটরসাইকেল নিয়েই চাপাইনবাবগঞ্জ যাবেন মো. সৌরভ নামের একজন। তিনি বলেন, অফিস ছুটি দিয়ে দিয়েছে। সেজন্য বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। তবে একজন যাত্রী সঙ্গে নিয়ে যাব। এতে যাত্রাটা আনন্দের হবে এবং কিছু টাকাও রোজগার হবে।

মিলন নামের একজন বলেন, সারাদিন অফিস করেছি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস কাল (বুধবার) থেকে বন্ধ। ‘লকডাউন’ যদি বাড়তে থাকে তাহলে পরে আর বাড়ি যাওয়া হবে না। এজন্য এখনই বাড়ি চলে যাচ্ছি। তবে কোনো পরিবহন না চলায় এখান থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত যাব প্রাইভেটকারে। তারপর নদী পার হয়ে ওই পাড়ে যা পাব তা দিয়েই যাব।

আরিফ নামের আরেক যাত্রী বলেন, কাজ বন্ধ, তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। ঢাকায় থাকলেই খরচ হবে, যেটা বহন করার মতো পরিস্থিতি নেই। লকডাউন শেষ হলে আবার ঢাকায় ফিরব। তবে সরাসরি গাড়ি চলাচল না করায় ভেঙে ভেঙে যেতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ১৮ দফা বাস্তবায়নে গত ৫ এপ্রিল থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন ছাড়া সড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার দ্বিতীয় দিন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন, দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ৬ এপ্রিল থেকে সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন চলবে। তবে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

পরে সাতদিনের ওই নিষেধাজ্ঞা ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আর ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে কার্যকর হবে কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন এ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল থেকে দেশের সব অফিস-আদালত, শপিংমল, দোকানপাট, হাটবাজার বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সব ধরনের পরিবহন চলাচল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তব পোশাক কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখা যাবে।

ফেসবুকে অমাদের ফলো করুন