বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১ || কার্তিক ৫ ১৪২৮ || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

Logo
Logo

মমতার বিদায় ঘণ্টা বাজছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

আপডেট: 9:52 PM, রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

১১

মমতার বিদায় ঘণ্টা বাজছে?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়োগকৃত নির্বাচনী পরামর্শক প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) ফাঁস হয়ে যাওয়া একটি অডিও ঘিরে সেখানকার ক্ষমতায় পালাবদলের ইঙ্গিত মিলছে। বিধানসভার চতুর্থ দফার ভোটের মাঝেই শনিবার রাজ্যের বিরোধীদল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ওই অডিও ফাঁস করার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মসনদের অবসান দেখছেন অনেকে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, চতুর্থ দফার ভোটের দিন শনিবার পিকের অডিও প্রকাশ করেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। ক্লাব হাউস চ্যাটরুমে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে দিল্লির সাংবাদিকরা কথোপকথন করছিলেন। সেই কথোপকথনের একাংশ তুলে ধরে বিজেপির অমিত মালব্য টুইট করেন।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবারে কোন দল ক্ষমতায় আসতে পারে; কোন দল কেমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে— এমন চিন্তা-ভাবনা থেকে ভোটারদের অবস্থান জানতে সমীক্ষা চালায় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শক প্রশান্ত কিশোরের প্রতিষ্ঠান।

এই সমীক্ষার ব্যাপারে প্রশান্ত কিশোরের ফাঁস হওয়া অডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ভোটারদের কাছে মূলত দু’টি বিষয় জানতে চেয়েছিলাম— প্রথমত, আপনি কাকে ভোট দেবেন। দ্বিতীয়ত, কে সরকার গড়বে। কে সরকার গড়বে— এই প্রশ্নে বেশিরভাগ জবাব দিয়েছেন, বিজেপি।’
কিন্তু কেন বেশিরভাগ মানুষ এবার বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন; সেই প্রশ্নের ব্যাখ্যায় তৃণমূলের নির্বাচনী এই পরামর্শক বলেন, ‘যারা বিজেপিকে ভোট দেবেন, তারা তো বলছেনই। এমনকি বামদের পক্ষে যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ভোটদাতা রয়েছেন; তাদেরও দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন, বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে।’

রাজ্যের বাম ভোটারদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোই মুখ্য বিষয় বলে দাবি করেন পিকে। কারণ বাম ভোটাররা মনে করেন, বিজেপি সরকার গড়লে বামদের সুদিন ফিরবে।

অডিওতে পিকেকে বলতে শোনা যায়, ‌‘এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, হিন্দুত্ববাদ, মেরুকরণের রাজনীতি এবং অবাঙালি-দলিত-মতুয়া ভোট। হিন্দুদের ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ ভোট যাবে বিজেপিতে। মতুয়াদের দুই তৃতীয়াংশ এবং দলিত ভোটও চলে যাচ্ছে বিজেপিতে। রাজ্যে খুব জনপ্রিয় মোদি।’

ফাঁস হওয়া অডিওতে তৃণমূলের এই নির্বাচনী পরামর্শক বলেন, ‘ভোট থাকলে তা মোদির নামে আছে। ভোট থাকলে হিন্দুত্বের নামে রয়েছে। মেরুকরণ, মোদি, হিন্দিভাষী, দলিত এগুলোই ফ্যাক্টর। শুভেন্দু গেল, কী প্রশান্ত কিশোর এল, তা এখানে ধর্ত্যব্যের বিষয়ই নয়। মোদি এখানে জনপ্রিয়।’

১ কোটি হিন্দিভাষী এবং ২৭ শতাংশ দলিত ভোটার পুরোপুরি বিজেপির সঙ্গে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ধর্মীয় মেরুকরণের গুরুত্বের কথাও বলেছেন পিকে।

চ্যাটে একটি প্রশ্নের জবাবে মতুয়া ভোটের গুরুত্বের কথা জানিয়ে প্রশান্ত বলেন, ‘আমাদের সমীক্ষার হিসেব বলছে, লোকসভা নির্বাচনের মতো একতরফা না হলেও এখনও মতুয়া ভোটের ৭৫ শতাংশ বিজেপির পক্ষে এবং ২৫ শতাংশ তৃণমূলের পক্ষে যাবে।’
আনন্দবাজার বলছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে রাজ্যজুড়ে বুথে বুথে বিজেপির অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। কিন্তু বিশ্লেষকদের এমন মত মানতে চাননি প্রশান্ত।

তিনি বলেছেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে বিজেপির প্রচুর নিষ্ঠাবান কর্মী আছেন। হতে পারে তারা বাম থেকে বিজেপিতে এসেছেন। কিন্তু এখন তারা একনিষ্ঠভাবে বিজেপির হয়েই কাজ করছেন। একটি-দু’টি জায়গা বাদ দিলে পশ্চিমবঙ্গের এমন কোনো এলাকা নেই; যেখানে বিজেপির প্রচুর নিষ্ঠাবান কর্মী নেই।’

কিন্তু এমন পরিস্থিতি হলে তৃণমূল কত ভোট পেতে পারে? প্রশান্তের জবাব, ‘আমার হিসেবে বিজেপি ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ হিন্দু ভোট পাবে।’

অডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রশান্ত কুমার এক টুইটে বলেছেন, ‘আমি খুশি, বিজেপি তাদের নেতাদের কথার চেয়ে আমার চ্যাটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কথার নির্দিষ্ট কিছু অংশ তুলে ধরে উত্তেজিত না হয়ে তাদের পুরো চ্যাটটি প্রকাশ্যে আনার সাহস দেখানো উচিত। আমি আগেও বলেছি, আবার বলছি, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ১০০ পেরোবে না।

তিনি দাবি করেছেন, অডিও ক্লিপে তার ক্লাবহাউস চ্যাটের অংশবিশেষ কেটে প্রকাশ করা হয়েছে। পুরো চ্যাটটি প্রকাশ করা হলে পরিষ্কার হবে তিনি ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন।
এদিকে, তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছেন, ওরা এখন পিকের অডিও নিয়ে মাতামাতি করছে। চতুর্থ দফায়তো শূন্য বা এক থেকে দুটি আসন পেতে পারে। বিভ্রান্তি ছড়াতে বিজেপি এসব করছে। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেছেন, ওরা এখন ওদের কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে এসব টেপ শুনিয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। ২ মের পর আর এই স্বপ্ন থাকবে না।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এবারে আট দফায় বিধানসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফায় গত ২৭ মার্চ ৩০টি, দ্বিতীয় দফায় ১ এপ্রিল ৩০টি এবং তৃতীয় দফায় ৬ এপ্রিল ৩১টি আসনে ভোট হয়।

শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৪.৬৩ শতাংশ, দ্বিতীয় দফায় ৮৬.১১ শতাংশ, তৃতীয় দফায় ৮৪.৬১ শতাংশ। চতুর্থ দফায় ভোট পড়েছে ৭৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।

আগামী ১৭ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ফেসবুকে অমাদের ফলো করুন